মামলার ফাঁদে পড়ে ধ্বংস হচ্ছে পাঙ্গা রাজ পরিবার

panga rajaষ্টাফ রিপোর্টারঃ কুড়িগ্রামের ছিনাই ইউনিয়নের পাঙ্গা রাজা পরিবারটি মামলার ঘানি টানতে গিয়ে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ১৯৮০ সালে পাঙ্গা রাজ পরিবারের উত্তরসুরি শ্রী রণবীর নারায়ন কোঙর তৎকালীন রংপুর জজ আদলতে জমি সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার রায় আজও হয়নি। মামলা চালাতে গিয়ে রাজ পরিবারটি রীতিমতো হাপিয়ে উঠেছে।
১৯৭০’র মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় রাজ পরিবারটি পালিয়ে ভারতে পাড়ি জমায়। যুদ্ধ শেষে এসে দেখেন স্থানীয় দুবৃত্তরা রাজবাড়ীর সমস্ত কিছু ভেঙ্গে লুট করে নিয়ে গেছে। রাজভিটার মাটি ও প্রাচীর ছাড়া কিছুই ছিলনা। এমন অবস্থায় পাঙ্গা রাজ পরিবারের উত্তরসুরি শ্রী রণবীর নারায়ন কোঙর রাজ ভিটায় একটি দ্বিতল ভবন করে বসবাস শুরু করেন। আইন অনুযায়ী রাজ পরিবারটি ২শ’ বিঘা কৃষি জমি পাবার কথা। অথচ তারা পান মাত্র ৬০ বিঘা জমি। অবশিষ্ট ১শ’ ৪০ বিঘা জমি স্থানীয় তহসিল অফিস খাস খতিয়ান ভুক্ত করে নেয়। ওই ১শ’ ৪০ বিঘা জমি  উদ্ধারের জন্য পাঙ্গা রাজ পরিবারের উত্তরসুরি শ্রী রণবীর নারায়ন কোঙর রংপুর জজ আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেন। যে মোকদ্দমাটি এখনো চলমান রয়েছে। এদিকে মামলার খরচ চালাতে গিয়ে রাজ পরিবারটি ক্রমাগত নিস্ব হয়ে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- পাঙ্গা স্টেটের মুল রাজা ছিলেন দেবন্দ্র নারায়ন কোঙর। এরপর রাজ পরিবারটির হাল ধরেন তার বড় ছেলে শচীন্দ্র নারায়ন কোঙর এবং ছোট ছেলে বীরেন্দ্র নারায়ন কোঙর। এনারা কেউ এখন বেঁচে নেই। সর্বশেষ রাজ পরিবারটির হাল ধরেন- শচীন্দ্র নারায়ন কোঙর-এর দু’ পুত্র যথাক্রমে রণবীর নারায়ন কোঙর ও সুজিত নারায়ন কোঙর। পাঙ্গা রাজ পরিবারের এই দু’ রাজপুত্র এখনো জীবিত রয়েছেন। তারাই রাজ পরিবারটিকে টিকিয়ে রেখেছেন।
বর্তমানে পাঙ্গা রাজ ভিটায় বসবাস করছেন রণবীর নারায়ন কোঙর। স্থানীয় দুবৃত্তরা এই রাজ পরিবারটিকে উচ্ছেদ করার জন্য বহু ধরণের ফন্দি-ফিকির এটেছিল। দুবৃত্তরা দফায় দফায় লুট পাট করে নেয় রাজ পরিবারের সম্পদ। এতো কিছুর পরও রাজভিটা ছেড়ে যাননি যোগ্য উত্তরসুরি রণবীর নারায়ন কোঙর। তিনি স্থানীয় দুবৃত্তদের বিরুদ্ধে রাজারহাট থানায় মামলা করেও ভাল ফল পাননি।
পাঙ্গা রাজ পরিবারের উত্তরসুরি শ্রী রণবীর নারায়ন কোঙর বলেন- সারা বাংলাদেশের মধ্যে হিন্দু রাজ পরিবারের মধ্যে আমরাই টিকে আছি। আমাদের দায়ের করা মামলাটির রায় পেলে রাজ পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবো। কুড়িগ্রামস্থ বিজিবি’র সদর দপ্তরের প্রধান ফটকে যে দু’টি কামান রয়েছে, সেই কামান দু’টি আমাদের। আমরা স্বেচ্ছায় কামান দু’টি বিজিবি’র কাছে হস্তান্তর করেছি।
তিনি আরো বলেন- স্থানীয় দুবৃত্তদের উৎপাতের কারণে আমার স্ত্রী দুলালী কোঙর এবং দু’ মেয়ে মন্দিরা কোঙর এবং পূঁজা কোঙরকে এখানে না রেখে তাদেরকে রংপুরে রেখেছি। এই রাজভিটায় আমি একাই পড়ে রয়েছি।

Share This: