ভুরুঙ্গামারী-ফুলবাড়ী-রাজারহাটেও জিআর চাল বিতরণে অনিয়ম হয়নি

9.8-21ষ্টাফ রিপোর্টারঃ কুড়িগ্রামের উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার পর ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী এবং রাজারহাট উপজেলায় জিআর খাতের ত্রাণের চাল বিতরণ সম্পর্কীত অভিযোগ খতিয়ে দেখে ছিঁটে ফোটা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। জিআর চাল বিতরণের ক্ষেত্রে যে রকম তদারকির ব্যবস্থা রয়েছে তাতে অনিয়ম করার তেমন কোন সুযোগ নেই। কারণ জিআর চাল বিতরণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তালিকা চেয়ে নেয়া হয়। এরপর ওই তালিকা অনুমোদনের পর তালিকা অনুসারে জিআর চাল বিতরণের নিয়ম রয়েছে। ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী এবং রাজারহাট উপজেলার প্রকল্প  বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাগণ সেই নিয়ম মেনেই জিআর চাল বিতরণ করেছেন। এ সকল উপজেলার মাষ্টার রোলগুলি যাচাই-বাচাই অন্তে কোন অনিয়মের চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। ব্যাপক তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে- কুড়িগ্রামের ৫ উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ২০৫ মে. টন ত্রাণের চাল লোপাটের অভিযোগ তুলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। বাস্তবে এ জাতীয় অনিয়ম করার কোন সুযোগই নেই। বিশেষ করে যেসকল ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন চেয়ারম্যানরা ভোটে হেরে গেছেন, সেই সকল ইউনিয়নে এ জাতীয় ভূয়া অভিযোগ তুলে অহেতুক ঝুট-ঝামেলার সৃষ্টি করা হয়েছে।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত এবং রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা ময়নুল হকের সাথে পৃথক পৃথকভাবে কথা বললে তারা দৃঢ়তার সাথে বলেন- জিআর খাতের চাল বিতরণে এতোটুকু অনিয়ম করা হয়নি। আর এ খাতের চাল বিতরণে অনিয়মের সুযোগও নেই। সরকারী নীতিমালা অনুসরণ করে আমরা জিআর খাতের চাল বিতরণ করেছি।
তারা আরো বলেন- বন্যাকালীন সময়ে আমরা রাতের ঘুম এবং বিশ্রাম হারাম করে বন্যা দূর্গত মানুষদের মাঝে জিআর খাতের চাল বিতরণ করে আসছি। বর্তমান সময়ে আমরা যারা দায়িত্ব পালন করছি তারা কেউ জিআর খাতের চাল আত্মসাতের মানুসিকতা পোষণ করি না। অথচ আমাদেরকে জড়িয়ে মিডিয়ায় যে তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে তাতে আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালেব মোল্লার সাথে কথা বললে তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন- ইদানিং কিছু নাম করা মিডিয়া আমার বক্তব্য ছাপা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে ওই সকল মিডিয়ার সাংবাদিকের সাথে আমার দেখা কিংবা কথা হয়নি। মিডিয়ার সাংবাদিকরা যদি দেখে, শুনে, বুঝে জিআর খাতের চাল বিতরণ সম্পর্কিত সংবাদ করতো তাহলে তারা ওই জাতিয় ঢালাও অভিযোগ করতে পারতো না। জিআর খাতের চাল বিতরণের ক্ষেত্রে যাতে কোন অনিয়ম না হয় সেজন্য আমরা সর্বদাই সজাগ রয়েছি।
উল্লেখ্য- উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ রফিকুল ইসলাম সেলিমকে নির্দেশ দিয়েছেন। যে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

Share This: