ফুলবাড়ীর সাইফুর রহমান কলেজ জাতীয়করণ নিয়ে ষড়যন্ত্র

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ অনিবার্য কারণে জাতীয়করণ কলেজের চুড়ান্ত তালিকায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সাইফুর রহমান মহাবিদ্যালয়ের নাম সংযুক্ত না হবার ঘটনায় হতভম্ব হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী ও কলেজ কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত বেসরকারী কলেজ জাতীয় করণের তালিকায় সংযুক্ত হয়েছিল ফুলবাড়ীর সাইফুর রহমান মহাবিদ্যালয়। পরবর্তীতে যাবতীয় তদন্ত কার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং তদন্ত রিপোর্টগুলিতে কলেজটির ইতিবাচক দিক সমুহ ফুটে উঠে। এছাড়াও কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ওই কলেজে অবকাঠামো নির্মানের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এতোকিছুর পরও ২৮৫টি বেসরকারী কলেজ জাতীয়করণের জন্য যে চুড়ান্ত তালিকা প্রণনয়ন করা হয়, সেই তালিকায় অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সাইফুর রহমান কলেজের নাম সংযুক্ত করা হয়নি। এ ঘটনায় ফুলবাড়ী উপজেলাবাসী চরম হতাশ হয়ে পড়ে। একটি প্রভাবশালী মহল নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হবার দরুন এ অনাকাঙ্খিত ঘটনার অবতারণা হয়েছে মর্মে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- ফুলবাড়ী উপজেলার খড়িবাড়ী বাজার সংলগ্ন মুল সড়কের ধারে গত ২০০০ সালে ১ একর জমির উপর এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি সাইফুর রহমান তার নিজ নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার একবছরের মাথায় অর্থাৎ ২০০১ সালে কলেজটিতে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি প্রদান করা হয়। আর ২০০৪ সালে কলেজটি একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বেসরকারী কলেজ জাতীয় করণের তালিকায় সংযুক্ত করা হয় ফুলবাড়ীর সাইফুর রহমান মহাবিদ্যালয়টিকে। বর্তমানে এই কলেজটিতে বিএম পরীক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এ কলেজটিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৬শ’ ২৮ জন। ৩৪ জন জনবল কাঠামোর মধ্যে রয়েছে ২২ জন শিক্ষক এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর ১২ জন কর্মচারী। দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে নন এমপিও কলেজগুলির মধ্যে ফলাফলের দিক থেকে ফুলবাড়ীর সাইফুর রহমান মহাবিদ্যালয় রয়েছে শীর্ষে।
সাইফুর রহমান মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন- এই কলেজটি সম্পর্কে সরকারের উপর মহলকে ভূল বোঝানো হয়েছে। একটি মহল প্রচারণা চালাচ্ছে বিএনপি’র মরহুম অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের নামে এই কলেজ করা হয়েছে। কিন্তু এ কথা সত্য নয়। অত্র এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি সাইফুর রহমানের নামে এই কলেজের নাম রাখা হয়েছে।
অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন- আমরা কখনোই হাল ছাড়বো না। যেটুকু ভূল বোঝাবুঝি হয়েছে তার অবসান ঘটিয়ে এই কলেজটিকেই জাতীয়করণের চুড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার চেষ্টায় রয়েছি।

Share This: