পুরস্কারপ্রাপ্ত কুড়িগ্রামের টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ উন্নয়নের পথে হাটছে

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত কুড়িগ্রামের টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজটি এখন উন্নয়নের পথে হাটছে। অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ জমিদার রহমান ও শিক্ষক কর্মচারীগণের অব্যাহত ঐকান্তিক প্রচেষ্টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে গেছে উন্নয়নের স্বর্ণ চুড়ায়। বিদ্যাপিঠটির অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শিক্ষার গুণগতমান। দৃষ্টিনন্দন ফুল আর ফলের বাগান দ্বারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অবয়বে আনা হয়েছে আমুল পরিবর্তন। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দিক থেকেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে- ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০০ জন। এর পাশাপাশি বর্তমানে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিয়ারিং কোর্সে অধ্যায়ন করছে ১১০ জন শিক্ষার্থী। ১৮ জন শিক্ষক এবং ৫ জন ষ্টাফ দিয়ে সাজানো হয়েছে জনবল কাঠামো। সুচনালগ্নে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল ভোকেশনাল। ১৯৯৫ সালে এসএসসি ভোকেশনাল এবং ১৯৯৭ সালে এইচএসসি ভোকেশনালে উন্নীত হয়। ২০০৪ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম সরকারিভাবে পরিবর্তন করে নামকরণ করা হয় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ। অধ্যক্ষ জমিদার রহমান দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন তরান্বিত হতে থাকে। আগে সামান্য বৃষ্টিপাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কোমর পানিতে ডুবে থাকতো। অবকাঠামোগত সুবিধাও সন্তোষজনক ছিল না। অভ্যান্তরিণ রাস্তা পাকা ছিল না । অধ্যক্ষ জমিদার রহমান উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে ধারাবাহিক যোগাযোগের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে মাটি ভরাট করে উঁচুকরণ সহ চার তলা বিশিষ্ট একটি ভবনের নির্মান কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। নির্মান করা হয়েছে ৩ ফুট উঁচু অভ্যান্তরিণ সিসি ঢালাই রাস্তা। পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ফুল ও ফলের বাগান। ডাবল ফিডারের বিদ্যুৎ লাইন চালু সহ অভ্যন্তরিণ বিদ্যুতায়নের ব্যাপকের সংস্কার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দু’টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ইন্টারনেটের ব্রড ব্যান্ডের সংযোগ সহ পুরো ক্যাম্পাসটিকে ওয়াই-ফাই জোনের আওতায় আনার ফলে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছে।
সুত্র আরো জানায়- কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আলহাজ¦ মোঃ জাফর আলী এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ আলহাজ¦ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর আর্থিক সহায়তায় দক্ষিণ ও উত্তরাংশের দু’টি গর্ত ভরাট করে সমতল মাঠ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সম্মুখভাগে নবনির্মিত শহীদ মিনারের সামন অংশ সহ আরো বেশ কিছু নিচু স্থান ও গর্ত ভরাট করতে পারলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সৌন্দর্য্য আরো বাড়বে। ২০১৫ সালের জন্য জাতীয় পর্যায়ে কুড়িগ্রামের টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ জমিদার রহমান জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৭ এ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (কারিগরি) হিসেবে নির্বাচিত হয়। ২০১৭ সালে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় কুড়িগ্রাম জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনোনিত হয়। দু’ বছরের ব্যবধানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ে ডাবল পুরস্কার পাবার পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
কুড়িগ্রাম টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জমিদার রহমানের সাথে আলাপকালে তিনি ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান- প্রতিটি ক্লাস রুমে মাল্টি মিডিয়া সিস্টেম ব্যবহার করে সফলভাবে ক্লাস পরিচালনা করা, ব্যবহারিক ক্লাস শতভাগ নিশ্চিত করণ সহ ৮ রুম বিশিষ্ট একটি ক্লাস রুম ভবন এবং ৮ রুম বিশিষ্ট একটি ওয়ার্কশপ ভবন নির্মানের বিষয়টির উপর গুরুত্বারোপ দিয়ে আসছি। তিনি বলেন- সংশ্লিষ্ট উদ্ধর্তন মহল সর্বদাই এই প্রতিষ্ঠানটির উপর সু নজর রেখেছেন। ফলে ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়নের কাজটি তরান্বিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করতে পারায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বর্ধন সম্ভব হয়েছে।

 

E-money exchangers listing

Share This: