নদীভাঙ্গন থেকে বাঁচতে চায় বজরাবাসী: চেয়ারম্যান আমিন

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ তিস্তা এবং ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনের শিকার বজরা ইউনিয়নটি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার একটি অবহেলিত ইউনিয়ন। নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে প্রতিবছরই গৃহহারা হচ্ছে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ পরিবার। এই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ডই চরাঞ্চল। বন্যার কারণে ইউনিয়নের অধিকাংশ ওয়ার্ডেই বোরো ধান ব্যতিত অন্যকোন ফসল ফলে না। শত প্রতিকুলতার মধ্যেও চর বজরার জীবনমান উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদা মনের মানুষ আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ¦ রেজাউল করিম আমিন। বজরা ইউনিয়নের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং অর্থনীতিক উন্নয়নে প্রধান বাঁধা কি ? এ প্রশ্নের উত্তরে চেয়ারম্যান আমিন একবাক্যে বলে উঠেন জামায়াত-শিবির’র রাজনীতি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শুধুমাত্র দু’বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে আলহাজ¦ রেজাউল করিম আমিন। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে নেতৃত্ব দেয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এ, কে, এম মাঈদুল ইসলাম মুকুলের রোষানলে পড়েন তিনি। তিনি তিনবার জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পরও স্থানীয় এমপির অবৈধ হস্তক্ষেপে ব্যালট বাক্স উলিপুরে এনে জামায়াত-বিএনপির প্রার্থীকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এমতাবস্থায় এবারো আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা মার্কা নিয়ে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করে বিপুল ভোটে বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হবার পর শুরু হয় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে গৃহীত কর্মসূচি ভিজিডি, ভিজিএফ, হতদরিদ্রদের জন্য একশ’ দিনের কর্মসূচি, ১০ টাকা দরে চাল বিতরণ, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা সহ সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডে কোন দুর্নীতি না হওয়ায় ইউনিয়নের সিংহভাগ গরীব-দুঃখী মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। সর্বপরী তার একান্ত প্রচেষ্টায় নদী ভাঙ্গন রোধে তিস্তা নদীর বাঁধে মেট্রোসিনের কাজ শুরু করায় জামায়াত-বিএনপি চক্র আবারো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। সম্প্রতি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাচাই চলাকালে একটি কুচক্রি মহল তাকে নাজেহাল করার জন্য সাংবাদিককে ভুল তথ্য দিয়ে তাকে স্বাধীনতা বিরোধী আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে। বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রেসক্লাবের একদল সাংবাদিক অনুসন্ধানে নেমে বজরা ইউনিয়নের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার কাছে জানতে পারে- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছে আমিন পরিবার। ৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের দুর্দিনে উলিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন চেয়ারম্যান আমিনের আপন বড়ভাই মোফাজ্জল হক আমিন। এছাড়াও চেয়ারম্যান আমিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিয়ে করেছেন নাগেশ^রী উপজেলার পরীক্ষিত এক আওয়ামী লীগ নেতার কন্যাকে। সদ্য সমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থী মোঃ জাফর আলীর পক্ষে সক্রিয় ভুমিকা পালন করায় সবার কাছে সমাদৃত হন। সবমিলিয়ে তার অর্জিত সাফল্যে বজরা ইউনিয়নের গরীব-দুঃখী মানুষ যখন সাবলম্বি হয়ে ঘুরে দাড়াচ্ছে ঠিক সেই মহুর্তে স্থানীয় এমপি গংরা আবারো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তাকে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়- বজরা ইউনিয়নটি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লাগোয়া হওয়ায় সুন্দরগঞ্জের জামায়াত-বিএনপি’র সন্ত্রাসীরা একটু বিপদ দেখলেই তারা আশ্রয় নেন বজরার বিস্তৃণ চরাঞ্চলে।
আলহাজ¦ রেজাউল করিম আমিন এবার বজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর ঘোষণা দেন- সুন্দরগঞ্জের জামায়াত-বিএনপির কোন সন্ত্রাসীকে বজরা ইউনিয়নের মাটিতে আশ্রয় দেয়া হবে না। এ ঘোষণার পর উলিপুরে বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দের মাথা ঘুরে যায়। ফলে তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। কোন দিকেই না পেরে প্রকৃত ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্যই সংবাদপত্রে ভুল তথ্য দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সর্বস্তরের জনতা ওই সংবাদটির তীব্র নিন্দা জানায় এবং বজরা ইউনিয়নকে জামায়াতের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আহ্বান জানায়।
এদিকে- শিক্ষানুরাগী বজরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ রেজাউল করিম আমিন সমাজ সেবার পাশাপাশি তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে এনেছেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তিনি নিজ উদ্যোগে বজরা ইউনিয়নে এল, কে আমিন স্কুল এন্ড কলেজ এবং এল, কে আমিন ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি এই স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দু’টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বজরা ইউনিয়নের প্রতিটি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান প্রদান সহ বিভিন্ন প্রকার সহায়তা করে আসছেন।

Share This: