খুনি মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম খুনি মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদের প্রাণভিক্ষা চেয়ে করা আদেবন খারিজ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বুধবার কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তিনি প্রাণভিক্ষার এ আবেদন করেন। পরে রাতে রাষ্ট্রপতি তা খারিজ করে দিয়েছেন বলে বঙ্গভবন সূত্রের উদ্ধৃতি করে একটি সংবাদ মাধ্যম খবরটি প্রকাশ করেছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম বুধবার বলেন, মৃত্যুর পরোয়ানার চিঠি বিকেলে কারাগারে এসে পৌঁছায়। আসা মাত্রই তা মাজেদকে পড়ে শোনানো হয়। এসময় মাজেদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে কারাকর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন তিনি।

জানা যায়, কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় হয়ে রাতে বঙ্গভবনে পৌঁছায়। এরপরই রাষ্ট্রপতি তা খারিজ করে দেন।

এদিকে চূড়ান্ত রায় হওয়ার দীর্ঘ ২২ বছর পার হয়ে যাওয়ায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো অধিকার আসামি রাখেন না বলে জানিয়েছিলেন এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

এর আগে, বুধবার দুপুরে আবদুল মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এম হেলাল উদ্দিন চৌধুরী। এই সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আবদুল মাজেদ।

এদিকে ৬ এপ্রিল রাতে আব্দুল মাজেদকে গাবতলী এলাকা থেকে গ্রপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। পরদিন ৭ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম জুলফিকার হায়াৎ।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় বেঁচে যান।

বঙ্গবন্ধুর পাঁচ হত্যাকারী সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যকর হয়।

আরেক খুনি আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তার ফাঁসির রায় ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বহাল রাখে।

পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক লেফট্যানেন্ট কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদ, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলে উদ্দিন।

Share This: