কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্প নগরীর হালচাল ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর দাবী

Bisikষ্টাফ রিপোর্টারঃ পর্যাপ্ত ঋণ সহায়তা না থাকা এবং শিল্প উদ্যোক্তরা বিনিয়োগে অনিহা দেখায়  কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের শিল্প সহায়ক কেন্দ্রে এখন প্রাণচাঞ্চল্যতা নেই। কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের ধারে ২০ একর জমির মধ্যে গড়ে উঠা বিসিক শিল্প নগরীতে মোট ১শ’ ৩৩টি প্লট বরাদ্দ দেয়া সম্পন্ন করা হয় ২০১৪ সালের ভিতর। এরমধ্যে ১৪ একর জমির ভিতর অবকাঠামো নির্মানের কাজ সম্পন্ন করা হলেও অবশিষ্ট ৬ একর জমির মধ্যে এখনো অবকাঠামো নির্মানের কাজ সম্পন্ন করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে- বিসিক শিল্প নগরীতে মোট ৪৩টি ইউনিটের মধ্যে চালু আছে ২৯টি, নির্মানের অপেক্ষায় রয়েছে ৮টি, নির্মানাধীন রয়েছে ৪টি এবং বন্ধ রয়েছে ২টি ইউনিট। বর্তমানে বিসিক শিল্প নগরীতে বিদ্যুতের সমস্যা না থাকলেও পানির সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঈদের ছুটিতে পানির পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় পানির পাম্পটি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দৈনিক ৮হাজার গ্যালন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন  পানির ট্যাংকটি সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে বলে সুত্র জানিয়েছে।
সুত্র জানায়- আগে কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্প নগরীতে প্রতি শতক জমির দাম ছিল ৩হাজার ৩০ টাকা। এখন দাম বাড়িয়ে প্রতি শতক জমির দাম ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ৮০ টাকা। এতো টাকা দিয়ে জমি কিনে এখানে কোন শিল্প উদ্যোক্তারা শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হচ্ছে না। এছাড়াও কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পরিবর্তে যদি বিসিক শিল্প নগরীটি কুড়িগ্রাম-রংপুর সড়কের পাশে গড়ে তোলা যেত তাহলে শিল্প উদ্যোক্তরা এখানে শিল্প স্থাপনে আগ্রহী হতো। ভবিষ্যতে যদি এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে তাহলে বিসিক শিল্প নগরীটির গুরুত্বও বাড়বে।
সুত্রমতে- কুড়িগ্রাম জেলায় ক্ষুদ্র শিল্প রয়েছে ৪শ’ ৫০টি, মাঝারী শিল্প রয়েছে ২টি এবং কুটির শিল্প রয়েছে ১২হাজার টি। ক্ষুদ্র কুটির শিল্পগুলিকে সহায়তা দেয়ার জন্য কুড়িগ্রাম শিল্প সহায়ক কেন্দ্র থেকে যে ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ দরিদ্র জেলায় ক্ষুদ্র কুটির শিল্প বিকাশের জন্য প্রতি বছর ১ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এখানে ঋণ বরাদ্দ দেয়া হয় বছরে মাত্র ৫/৭ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের আওতাভূক্ত কুড়িগ্রাম শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের উপ-ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেন সাংবাদিকদের জানান- নানাবিধ সমস্যার ভিতর দিয়ে আমরা এগিয়ে চলছি। আমাদের কাছে যারা আসছেন তাদেরকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। ছোট্ট-খাটো ঋণও দেই। তবে ঋণের টাকা উত্তোলনের হার সন্তোষজনক নয়। তথাপি আমাদের মাধ্যমে যদি বছরে ১ কোটি টাকা ঋণ দেয়া যেত তাহলে কুড়িগ্রামে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের আরো বেশি বিকাশ ঘটানো যেত।

Share This: