কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ১৮ কিঃ মিঃ পানির লাইন সম্প্রসারণের কাজ ঘাটে ঘাটে চাঁদা দাবী

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সমস্যা সঙ্কুল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় নতুন করে ১৮ কিঃ মিঃ পানির লাইন সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এ কাজের প্রাক্কলন মুল্য দু’ কোটি ৭০ লাখ টাকা হলেও চুক্তি মুল্য এসে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২ লাখ টাকায়। যা প্রাক্কলন মুল্যের চেয়ে ৬৮ লাখ টাকা কম। এতোবড় মুল্য তারতম্যের ফলে পানির লাইন সম্প্রসারণের কাজ করতে গিয়ে ভিষন বেগ পেতে হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সুত্রের।
সুত্র জানায়- ঢাকাস্থ এসএইচ ইন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পানির লাইন সম্প্রসারণের কাজ প্রায় ৭৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে অবশিষ্ট ২৫ ভাগ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাপ্ত হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী শুরু হওয়া এই কাজ বাস্তবায়নের সময় সীমা ধরা হয়েছে ৬ মাস। কুড়িগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং কুড়িগ্রাম পৌরসভা যৌথভাবে এ কাজের তদারকি করছে। এ ছাড়াও একটি কনসালটেন্সি ফার্ম পানির লাইন সম্প্রসারণের কাজ তদারকি করছেন।
কুড়িগ্রাম পৌরসভা সুত্র জানিয়েছে- পুরাতন পানির লাইন আছে মোট ৩৪ কিঃ মিঃ। নতুন করে আরো ১৮ কিঃ মিঃ পানির লাইন করার পরও পানির ঘাটতি মিটবে না। এ কারণে নতুন করে আরো ২০ কিঃ মিঃ পানির লাইন, ৪টি পাম্প হাউজ এবং ২টি ট্রিটমেন্ট প্লান্টের চাহিদা স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সুত্র আরো জানায়- কুড়িগ্রাম কলেজ মোড়স্থ পানি শোধানাগারটির নির্মান কাজ শেষ হলে প্রতিঘন্টায় ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার পানি শোধন করে সরবরাহ করা যাবে। নির্মানাধীন এই পানি শোধনাগারকে কেন্দ্র করেই নতুন পানির লাইন সম্প্রসারণের কাজ করানো হচ্ছে।
এব্যাপারে কুড়িগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন- পানির লাইন সম্প্রসারণের কাজ করতে গিয়ে টুকটাক যেটুকু সমস্যা হচ্ছে তা উতরিয়ে গিয়ে কাজটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করার চেষ্টা করছি।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল আহমেদ ও সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল জানান- টেন্ডার আহ্বান থেকে শুরু করে কাজ বাস্তবায়নের যাবতীয় কার্যাদি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিপ্তর করছে। আমরা শুধু সাইট সিলেকশন এবং সামান্য পরিমানে তদারকির কাজ করে যাচ্ছি।
এ নিয়ে সর্বশেষ কথা হয় কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র আব্দুল জলিলের সাথে। তিনি জানিয়েছেন- পানির লাইন সম্প্রসারণের কাজটি অনেক লেসে নেয়া হয়েছে। তথাপি আমরা ঠিকাদারকে বুঝিয়ে কাজটি শুরু করেছি। এখন বাস টার্মিনাল থেকে মুরগীর ফার্ম পর্যন্ত এবং খেঁজুরের তল থেকে নাজিরা পর্যন্ত সহ আরো বেশ কিছু জায়গায় কাজটি করতে গিয়ে স্থানীয় চাঁদাবাজদের ঝামেলায় পড়েছি। এতোকিছুর পরও কাজটি সম্পন্ন করার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এ কাজ বাস্তবাস্তবায়নে আমি পৌরবাসীর কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা চাইছি।

Share This: