কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচন এবং আমার দেখা জাফর ভাই

jafar-writeএই মুহুর্তে যদি বলা হয়- কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের হৃদপিন্ড  কোনটি তাহলে নিসন্দেহে যার নাম চলে আসবে তিনি হচ্ছেন মোঃ জাফর আলী ভাই। তাকে কেন্দ্র করেই এ দলটির শেকড় তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আর তিনিও তৃণমূল পর্যায় থেকেই উঠে এসেছেন। জাফর ভাই কারো পরিচয়ে পরিচিত হননি। বলতে গেলে তিনি তার স্বমহিমায় পরিচিত হয়েছেন। ইদানিং লক্ষ্য করা যায় বহু নামী-দামী রাজনৈতিক নেতা কারো না কারো পরিচয়ে পরিচিত হন অথবা ওই সকল নেতা রাজনীতির পাশাপাশি অন্যকোন পেশার সাথে সম্পৃক্ত থাকেন। জাফর ভাই তার ব্যতিক্রম। তিনি যেমন কারো আলোয় আলোকিত না হয়ে নিজ আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছেন, তেমনি তিনি একজন ফুলটাইমার রাজনৈতিক হিসেবেও খ্যাতির শীর্ষ চূড়ায় উঠেছেন।
মোঃ জাফর আলী ভাই বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার শেকড় সন্ধান করতে গেলে চলে যেতে হয় কলেজ জীবনের কথায়। আমি যখন কুড়িগ্রাম কলেজে (বর্তমানে কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজ) উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনা করি, তখন জাফর ভাই কলেজের সংসদ নির্বাচনে জিএস নির্বাচিত হন। পরবর্তী নির্বাচনে তিনি ভিপি পদে নির্বাচিত হয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। এরপর তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। উল্লেখিত দু’টি নির্বাচনই তিনি ছাত্রলীগের ব্যানারে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন। তখন আমিও জাসদ ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত থেকে একই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। দু’জন দু’ মেরুতে অবস্থান করলেও তার সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনোই খারাপ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শোনা শেষ করে আমি কলেজের অধ্যাপনা এবং সাংবাদিকতা পেশায় সম্পৃক্ত হই। আর জাফর ভাই সেই রাজনীতি নিয়েই পড়ে থাকলেন।
জাফর ভাই রাজনীতিতে এসে শুধু মাত্র মিছিল-মিটিং নিয়েই পড়ে ছিলেন না; তিনি জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য নিজ ইউনিয়ন কাঁঠালবাড়ী থেকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেন। এপদে একটানা ২৫ বছরের অধিক জনপ্রিয়তার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তবে এই সময়ও তিনি রাজনীতির হাল ছাড়েননি। বরং শক্ত হাতেই রাজনীতির লাগাম টেনে ধরেছিলেন। তার জীবনের বড় প্রাপ্তি এমপি নির্বাচনে জয়লাভ করা। তিনি এমপি নির্বাচিত হবার পরও তার মধ্যে এতোটুকু অহমিকা বোধ দেখতে পাইনি। বরং দেখেছি তিনি নিজের কাঁচা বাজার নিজেই করেছেন। ফজরের নামাজ আদায় করে পথে-ঘাটে বেড়িয়ে সাধারণ মানুষের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তিনি কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে মনোনিত হবার পরও তার মধ্যে এতোটুকু পরিবর্তন লক্ষ্য করিনি। দীর্ঘদিন দলের গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তার উপর দিয়ে নানাবিধ ঝড়ঝাপটা বয়ে গিয়েছিল, তাতেও তিনি বিচলিত কিংবা ভেঙ্গে পড়েননি। সব সময় অবিচল থেকেই রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন।
তিনি এমপি থাকাকালীন অবস্থায় যেকোন ডিও লেটার প্রদান কিংবা টিআর/কাবিখা প্রকল্প থেকে এতোটুকু ফাঁয়দা নেননি বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সাধারণত দেখা যায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মুল পদে থাকলে সরকার কর্তৃক পরিচালিত চেম্বার অব কমার্স, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, রেডক্রিসেন্ট, জেলা ক্রীড়া সংস্থা সহ লোভনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতির পদের দিকে লোভ থাকলেও তিনি এসবের দিকে ফিরেও তাকাননি।
কুড়িগ্রামের পুর্ণাঙ্গ ধরলা সেতু এবং নির্মানাধীন দ্বিতীয় ধরলা সেতু সহ কুড়িগ্রামের প্রতিটি সেক্টরে যত উন্নয়ন হয়েছে তার প্রতিটিতে তার অতুলনীয় অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে- তার সহনশীলতা অনেক বেশী। তিনি ক্ষমতায় থেকেও ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। একারণেই তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহন যোগ্যতা পেয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী হলেও তার ব্যক্তিগত কারিশমায় তিনি এখন সর্ব দলীয় প্রার্থীতে পরিণত হয়েছেন।
কুড়িগ্রামে যারা আওয়ামীলীগের রাজনীতি করছে তাদের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে সবার শীর্ষে রয়েছেন মোঃ জাফর আলী ভাই। শুধু তাই নয়- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাফর ভাইকে বাই নেমে চেনেন। আর এ কারণেই কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মোঃ জাফর আলী ভাই পেয়েছেন দলীয় সমর্থন। এটি ছিল তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ন্যায্য প্রাপ্য।
আমি আশা করছি- আসছে ২৮ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্মানীত ভোটাররা তাকে নির্বাচিত করতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

লেখক পরিচিতি: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক বাংলার মানুষ।

Share This: