কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুল ইসলাম এবং সৃজনশীল কর্মকান্ড

photo-1কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ চত্বরে পা রাখলে যে চোখ ধাঁধানো উন্নয়ন কর্মকান্ড দেখা যায় তার নেপথ্য নায়কের নাম মোঃ ফরিদুল ইসলাম। ইনি ২০০৯ সালের ১৬ আগষ্ট কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে যোগদানের পর পাল্টে যেতে থাকে এই প্রতিষ্ঠানটির অবয়ব। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আর, কে রোডস্থ ধরলা সুপার মার্কেট নির্মান, জেলা পরিষদ চত্বরে চার তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ডাকবাংলো নির্মান, স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে পরিষদ চত্বরের পুকুর সংস্কার, সেই পুকুরে হাঁসের খামার গড়ে তোলা, জেলা পরিষদের জামে মসজিদের উন্নয়ন, দুলর্ভ প্রজাতির ফুল-ফল ও ঔষুধী গাছের বাগান গড়ে তোলা, সাইবার ক্যাফ চালু করণ, জেলা পরিষদ চত্বরকে ওয়াই ফাই জোনে পরিণত করা, সু সজ্জিত প্রধান ফটক নির্মান, পরিষদ চত্বরের অভ্যান্তরিণ রাস্তা নির্মান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন নির্মান সহ এমন আরো অজ¯্র সৃজনশীল উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আর এসব উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি খুব সহজেই কুড়িগ্রামবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন। পেয়েছেন এখানকার মানুষের অকৃতিম ভালবাসা।
কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুল ইসলাম দায়িত্বপালনকালীন সময়ে তিনি জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আ আমিন এবং বর্তমান প্রশাসক কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলীর সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত দু’ জন প্রশাসকের সাথে কাজ করতে গিয়ে তার এতোটুকু সমস্যা হয়নি। বরং প্রশাসক দ্বয়ের শক্তির উপর ভর দিয়ে তিনি ন্যায়-নীতি বজায় রেখে জেলা পরিষদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।
কুড়িগ্রামে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা করে আসছি। প্রতিটি সরকারী প্রতিষ্ঠান সম্পকে কম-বেশী খোঁজ-খবর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে জমা আছে। যখনই কোন সরকারী কর্মকর্তার ভাল কাজ চোখে পড়েছে তখনই তার উপর ইতিবাচক লেখা লিখে তাকে উৎসাহ দেয়ার প্রয়াস করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই লেখা। আমি বিশ্বাস করি উৎসাহ একজন মানুষের উদ্দীপনাকে বহুগুনে বাড়িয়ে তোলে। পেশাগত কারণে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামের সাথে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। তার সাথে বহু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। যতবারই আলোচনা করেছি ততবারই তিনি তার কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরে আমার কাছে জানতে চেয়েছেন আরো কি করলে এখানকার মানুষ উপকৃত হবেন। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম কুড়িগ্রামের কোন বিষয়টি আপনাকে বেশী আকর্ষন করে। উত্তরে তিনি বলেছিলেন- এ অঞ্চলের মানুষের সরলতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। যখন দেখি এখানকার সেই সকল সহজ-সরল মানুষ বন্যায়, খরায়, নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়ে কষ্ট পায় তখন তাদের সেই কষ্ট আমাকে দারুনভাবে পীড়িত করে। আর এ কারণেই ছক বাঁধা দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে এখানকার দুঃখী-দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছি। আমার সেই চেষ্টা কতখানি সফল হয়েছে তার মুল্যায়নের ভার আপনাদের (সাংবাদিক) উপরই ছেড়ে দিলাম।
এই লেখার উপ সংহারে বলবো- একজন মানুষের ভিতরে কতখানি সৃজনশীলতা থাকে তা ফুটে উঠে তার কর্মকান্ডে। কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুল ইসলামের কর্মকান্ডে সেই সৃজনশীলতাই ফুটে উঠেছে। উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে থাকা আমাদের কুড়িগ্রামকে সামনের পথে এগিয়ে নিতে তার মতো সৃজনশীল, কর্মউদ্যোমী, সৎ, নীতিবান অফিসারের বড্ড বেশী প্রয়োজন। আশা করি সংশ্লিষ্ট উদ্ধর্তৃন কর্তৃপক্ষ আমার এই মতামতকে মুল্যায়ন করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

Share This: