কুড়িগ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের মাষ্টার পাড়া গ্রামে টাঙ্গাইল ফেরত শহিদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিজ বাসায় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় প্রায় বিনা চিকিৎসায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে রোববার (১৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু বরণ করেছে। তার পিতার নাম মোহাম্মদ আলী। সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিল।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়- নিহত শহিদুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে টাঙ্গাইলের যে বাড়িতে কাজ করতে যায়, সেই বাড়ির মালিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এতে রাজমিস্ত্রি শহিদুল ইসলাম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে গত ১৩ এপ্রিল নিজ বাড়িতে ফিরে আসে। এখানে এসেও সে নিস্তার পায়নি। এলাকার সচেতন মানুষ প্রশাসনকে খবর দিলে প্রশাসন ওই বাড়িটি লকডাউন করে দেয়। সেই সময় তার শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ না থাকায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠায়নি। এমনকি সে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগ তার কোন খোঁজখবর নেয়নি।
এলাকাবাসী আরো জানায়- নিহত রাজমিস্ত্রি বুঝতে পারছিল তার অবস্থা ভাল নয়। এ জন্য সে নিজে থেকে বাড়িতে না থেকে নির্জন ধান ক্ষেতের স্যালো মেশিনের ঘরে একটানা তিন দিন একাই ছিল। সে নিজে থেকেই পরিবার সহ এলাকার কারো সাথে মেশা ঘেষা করেনি। তার শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলেও লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে যানায় নি। অবশেষে ১৯ এপ্রিল নিজ বসত ঘরে এসে নিঃসঙ্গ মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
এ মৃত্যুর খবর পেয়ে উলিপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার একটি মেডিকেল টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ১৯ এপ্রিল রাত পৌনে ১টায় তার সাথে কথা হয়। তিনি জানান- ‘‘আমরা মরদেহের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে এসেছি।’ তাকে যখন হোম কোয়ারেন্টিনে রাখলেন, তখন কেন তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করলেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- ওই সময় তার শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ ছিল না।
এব্যাপারে কথা বলা হয় নিহতের প্রতিবেশী এবং দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারমান সাইফুল ইসলাম সাঈদের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন- করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হলে এ ভাইরাস ১৪ দিন পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকে বলে আমরা জেনেছি। স্বাস্থ্য বিভাগ যেদিন বাড়িটি লকডাউন করেছিল, সেই দিনই তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ সহ যদি তাকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখতো তাহলে তার এই অকাল মৃত্যু হতো না বলে আমার কাছে প্রতিয়মান হয়।

Share This: