কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভা খানাখন্দ ভরপুর

আব্দুর রহিমঃ উলিপুর পৌরসভার বিভিন্ন মৌজার পাড়া-মহল্লা, গ্রাম ও শহরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তায় খানাখন্দে ভরপুর। প্রতিদিনই কোনো না কোনো রাস্তায় যাত্রীবাহী যানবাহন দুর্ঘটানার শিকার হচ্ছে। জানা যায়, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৮ সালে ২৭.৩৪ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে পৌরসভার জন্ম হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন অর্থ বছরে রাস্তা সংস্করণ বাজেট ও টেন্ডারের মাধ্যমে মাত্র দু’একবার রাস্তা মেরামত কাজ হয়েছে। পৌরসভায় মোট পাকা রাস্তা রয়েছে ৬৪ কিলোমিটার যার ১৬.৮৫ কিলোমিটারের কাজ হয়েছে জাইকা প্রকল্পের অর্থায়নে। জাইকার কাজ করা রাস্তাগুলোও কোথাও কোথাও খানাখন্দ হয়ে গেছে। কাঁচা রাস্তা রয়েছে ৬৭ কিলোমিটার সে রাস্তাগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। হেরিং রাস্তা রয়েছে ৪ কিলোমিটার । বছরের পর বছর ভারী বর্ষণ আর ভারী যান চলাচলের কারণে দুর্বল মেরামত করা উত্তর-দক্ষিন পূর্ব-পশ্চিমের রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সংস্কারের সময় যে নি¤œমানের বিটুমিন, ইট-পাথর ব্যবহার করা হয়েছে তা আর রাস্তায় নেই, সেগুলো ছিটকে পরে আছে রাস্তার পাশে। জোনাইডাঙ্গা, নারিকেল বাড়ী, আব্দুল হাকিম, নাওডাঙ্গা নিজাই খামার গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে ঐ রাস্তাগুলোর ডানে বামে অসংখ্য ছোট বড় খানাখন্দে ভরপুর। যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পৌর শহরের মুন্সিপাড়া গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে ৪ মাস ধরে। তাদের যেমন দুর্দশার অন্ত নেই, তেমনি দেখার কেউ নেই। এমনকি রাস্তাগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় যত্রতত্র কর্দমাক্ত ও খানাখন্দ হয়ে গেছে। পৌর শহরের ভেতরে যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে সেটিও সরু হওয়ায় ড্রেন ভর্তি হয়ে নোংরা পানি উপচে রাস্তায় পড়ার ফলে জনমানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের রাস্তাগুলো দিয়ে প্রতিদিনই অগণিত ভারী-অর্ধভারী যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যানবাহনের চালকরা প্রায়ই যাত্রীসহ নানা দুর্ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছে। অটোরিক্সা চালক রেজা, আলম ও ট্রাক্টর চালক আল আমিন জানায়, বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে যার কারনে ইট পাথর উপড়ে গেছে, চাকা আর হ্যান্ডেল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় প্রতিদিন ছোট বড় দুর্ঘটানায় পড়ছি। নারিকেল বাড়ী গ্রামের বাতেন, কাচারি গ্রামের রানু, আব্দুল হাকিম গ্রামের মাসুদ রানা জানান, আমাদের ভাগ্যই খারাপ জন্য আমাদের রাস্তার কাজ হয় না। তারা আরো জানান, “ভ্যাট-ট্যাক্স সগেই দেই হামার এতি নেতার চোখ নাই, ব্রীজ ভাঙ্গি যায় রাস্তা ভাঙ্গি যায়, হামরা বিপোদত থাকি ওমরা হামাক দেকেনা।” উপজেলা প্রকৌশলী খায়রুল কবীর মোঃ সাদেকুল আলম জানান, পৌরসভার রাস্তা উন্নয়নের কাজ পৌর কর্তৃপক্ষই করেন, আমরা চাইলেও সেটি হয়ে ওঠেনা। পৌর মেয়র তারিক আবুল আলা চৌধুরী জানান, এলজিইডির কাছে রাস্তা মেরামতের তথ্য দেয়া আছে অর্থ বাজেট হলেই কাজ শুরু হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সমন্ধে জানতে চাইলে বলেন, আস্তে আস্তে সবই করা হবে।

Share This: