করোনা মহামারিতে মাহে রমযানের আগমন: কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

আজ তামাম দুনিয়ার মানুষ করোনা ভাইরাস নামক এক মহামারিতে আতঙ্কিত হয়ে নিজ নিজ বাসায় কোয়ারান্টাইনে বন্দি জীবন-যাপন করছে। মৃত্যু হয়েছে সারা পৃথিবীতে দুই লক্ষাধিক মানুষের। সাম্রজ্যবাদ, বস্তুবাদ, ধর্মনিরপেক্ষবাদসহ সকল মানবরচিত মতবাদের সীমাহীন ভোগবাদী মানসিকতা মানুষকে ব্যক্তি স্ব্যাতন্ত্রিকতা ও স্বার্থপরতার চুড়ান্ত শিখরে নিয়ে গেছে। এ পৃথিবী নামক গ্রহপাপ-পঙ্কিলতায় অতল গহবরে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।

একবিংশ শতাব্দীর বনিআদম স্রষ্টাকে ভুলে সৃষ্টির দাসত্ব ও গোলামীতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। অত্যাচার, অবিচার, জুলুম-শোষণ ও দূর্বল মানুষের উপর যখন সবলের নির্যাতনের উলঙ্গ আস্ফালন, ঠিক তখনি পুরো পৃথিবীকে লকডাউনে এনে শক্তিধরদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে মহান প্রভূর সীমাহীন ক্ষমতা তিনি দেখিয়ে দিলেন । এরই মাঝে আগমন করেছে পবিত্র মাহে রামযান। মহান আল্লাহর পক্ষ হতে পবিত্র মাহে রমযান শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর উম্মতের উপর রহমতের বার্তা নিয়ে আগমন করে প্রতি বছর। স্বাগত, হে মাহে রমযান।

এ বছর এমন একটি মূহুর্তে রমযান আমাদের কাছে এলো, যখন মানুষ ঘর বা নিজ বাসা থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছেনা। সবাই বাঁচার জন্য তীব্রভাবে সচেতন হয়ে সাবধানতার সাথে দিনাতিপাত করছে। আর এ অবস্থায় সিয়াম পালন করতে হবে সকলকে। সিয়ামেও রয়েছে কিছু বিধি নিষেধ, করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্যও রয়েছে কিছু বিধি-নিষেধ। করোনা মহামারিতে মানুষের অন্তর্দিৃষ্টি বিকশিত হয়ে মহান স্রষ্টার কাছে নিজেকে সপে দেওয়ার যে অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে ঠিক সিয়াম এসে তা আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে দিলো যেনো।

রমযান উপলক্ষে সকল মুসলমান পাপ হতে ফিরে আসে পুণ্যময় জীবনের পথে। সকলে সিয়াম পালনের মাধ্যমে জীবনের সকল গুনাহ হতে মুক্ত হয়ে মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করে। পক্ষান্তরে আল্লাহ তায়ালা এ মাসকে করেছেন পবিত্র ও মহিমান্বিত। এ মাসে ইবাদত-বন্দেগীর ফযীলত অনেক।এ মাসের বিশেষ কতিপয় ইবাদত ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা আলোচ্য নিবন্ধে উল্লেখ করা হলো-

সিয়াম পালন : রমযানের সিয়াম সকল মুসলমানের উপর ফরয। করোনাকালিন এ চরম বিপদে এবং আতঙ্কে যেখানে আমরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর মুখোমুখি দাড়িয়ে, সেখানে অবশ্যই প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ সিয়াম পালন করবো। এটা মুসলিমদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক শারিরীক ইবাদত। আল্লাহ বলেন,‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরয করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর। যাতে তোমরা আল্লাহভীতি অর্জন করতে পারো।’ (বাক্বারাহ ১৮৩)।

অন্যত্র তিনি আরো বলেন, ‘রমযান সেই মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে মানুষের হিদায়াত স্বরূপ এবং সুস্পষ্ট পথনির্দেশ ও হক্ব-বাতিলের পার্থক্যকারী হিসাবে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে সে যেন সিয়াম পালন করে।’ (বাক্বারাহ ১৮৫)।রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম পালন করে, তার বিগত সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়’। (বুখারী,মুসলিম) তিনি আরো বলেন, ‘সিয়াম হলো ঢাল স্বরূপ, তাই তোমাদের যে কেউ সিয়াম পালন করবে, সে যেন অশ্লীলতা, পাপাচার এবং মূর্খতা প্রদর্শন না করে। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করে বা তাকে গালি দেয়, সে যেন বলে আমি সিয়াম পালনকারী’। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৫৯)এভাবে আল্লাহর বান্দা হিসাবে সিয়াম পালনকারীকে চোখ, কান, জিহবাসহ সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এতে করে প্রত্যেকটি ব্যক্তি খাঁটি ঈমানদার হিসেবে নিজেকে তৈরী করার সুযোগ পায়। আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে গঠন করার এটা একটি সুবর্ণ সুযোগ। আর এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা রমযান মাসকে অনেক ফযীলত ও বৈশিষ্ট্য দ্বারা বিশেষিত করেছেন।

তার কয়েকটি নিম্নরূপ-

১। সায়েমের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিসকে আম্বরের চেয়েও বেশী সুগন্ধময়।

২ ফিরিশতাগণ সিয়াম পালনকারীর জন্য ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকেন।

৩। মহান আল্লাহ রমযানে প্রত্যহ তাঁর জান্নাতকে সুসজ্জিত করেন।

৪। এ মাসে শয়তানকে শৃংখলাবদ্ধ করা হয়।

৫। এ মাসে জান্নাতের দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দ্বারগুলি বন্ধ করে রাখা হয়।৬। এ মাসে ক্বদরের রাত্রি রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।

নৈশকালীন নফল ইবাদত : রামাযানে রাত্রিকালীন ইবাদত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নবী করীম (সাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের প্রত্যাশায় রমযানে রাতে নফল সালাত (তারাবীহ) আদায় করবে, তার পূর্বকৃত সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে’। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৮৫) আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রতার সাথে চলে এবং তাদের সাথে যখন মূর্খরা কথা বলে তখন তারা বলে সালাম। আর যারা রাত্রি যাপন করে স্বীয় প্রভুর জন্য সিজদাবনত ও দন্ডায়মান অবস্থায়’ (ফুরক্বান ৬৩-৬৪)। এখানে চমৎকারভাবে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুন্দর একটি প্রসেস মহান আল্লাহ উপস্থাপন করেছেন। নম্রভাবে ধীর চিত্তে চলা আর অবিদ্বানদের সাথে ব্যবহারের এ্যাটিক্যাট শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি মহান প্রভূর সান্নিধ্যে পৌঁছার ভিতরগত প্রাণশক্তি অর্জনের পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে।

সালাতুত তারাবীহ : সালাতুত তারাবীহ বা রাসূল (সাঃ)-এর রাতের সালাত বিতর সহ ১১ রাকাআত ছিলো। রাতের সালাত বলতে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ দুটোকেই বুঝানো হয়। তবে রমযান মাসে তারাবীহ পড়লে আর তাহাজ্জুদ পড়তে হয় না। তবে সালাতুত তারাবীহ হতে হয় দীর্ঘ রাকাত বিশিষ্ট এবং ধীরে ধীরে।

(১) একদা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রমযান মাসে রাসূল (সাঃ)-এর সালাত কেমন ছিলো?তিনি বললেন, রমযান ও রমযান ব্যতীত অন্য মাসে রাসূল (সাঃ)-এর রাতের সালাত ১১ রাকাতের বেশী ছিল না। (বুখারী ১/১৫৪ পৃঃ; মুসলিম ১/২৫৪ পৃঃ)

(২) জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রমযান মাসে আমাদেরকে ৮ (আট) রাকাত তারাবীহ ও বিতর সালাত পড়ান। (আবু ইয়ালা, ত্বারাবানী, আওসাত্ব, সনদ হাসান, মির‘আত ২/২৩০ পৃঃ)তিনি প্রতি দুই রাকাত অন্তর সালাম ফিরিয়ে ৮ রাকাত তারাবীহ শেষে কখনও এক, কখনও তিন, কখনও পাঁচ রাকাত বিতর এক সালামে পড়তেন। কিন্তু মাঝে বসতেন না। (বুখারী ১/১৬৯ পৃঃ; মুসলিম ১/২৫৪ পৃঃ)

(৩) জামাতের সাথে রাতের সালাত (তারাবীহ) আদায় করা রাসূল (সাঃ)-এর সুন্নাত এবং দৈনিক নিয়মিত জামাতে (তারাবীহ) আদায় করা ইজমায়ে ছাহাবা হিসাবে প্রমাণিত। (মুসলিম ১/২৫৪ পৃঃ; ঐ (বৈরূত ছাপা), হা/৭৩৬, ৩৭-৩৮)অতএব তা বিদআত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যারা তারাবীহ সালাত জামাতে পড়াকে বিদআত বলেন তারা গুমরাহ।

লাইলাতুল ক্বদর অন্বেষণ করা : মাহে রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর রয়েছে। এক শ্রেণীর মুসলমান মহিমান্বিত রজনী তথা ক্বদরের রাত হিসাবে ২৭শে রমযানের রাতকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে এবং এই রাতে প্রতি মসজিদে মুসল্লীদের ঢল নামে। সারারাতসালাত আদায় করা হয়। এক শ্রেণীর আলেম সাধারণ মুসলমানের মধ্যে এ তারিখে ইবাদত করার বিষয়টি প্রচার করে থাকে অবিদ্যা ও জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে এবং কেবল এই একটি রাতেই সালাত আদায় ও কুরআন তেলাওয়াতের নির্দেশ দেয়, যা সঠিক নয়।

আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা শবে ক্বদর তালাশ করবে রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতে’। (বুখারী হা/২০১৭; মিশকাত হা/২০৮৩।) ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, নবী করীম (সাঃ)-এর সাহাবীগণের কয়েকজনকে স্বপ্নে দেখানো হলো, শবে ক্বদর (রমযানের) শেষের সাত রাত্রির মধ্যে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, আমি দেখেছি তোমাদের সকলের স্বপ্নই একইরূপ শেষ সাত রাত্রিতে সীমাবদ্ধ। সুতরাং যে তা অন্বেষণ করে, সে যেনো শেষ সাত রাত্রিতে অন্বেষণ করে’। (বুখারী হা/২০১৫; মিশকাত হা/২০৮৪) ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা তালাশ করবে তা (শবে ক্বদর) রমযানের শেষ দশকে মাসের নয় দিন বাকি থাকতে, সাত দিন বাকি থাকতে, পাঁচ দিন বাকি থাকতে’। (বুখারী হা/২০২১; মিশকাত হা/২০৮৫)

লাইলাতুল ক্বদরের মর্যাদা : লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করা হাজার মাস ইবাদত অপেক্ষা উত্তম। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘নিশ্চয়ই আমি একে (কুরআনকে) মহিমান্বিত রজনীতে নাযিল করেছি। মহিমান্বিত রজনী কি, তা কি আপনি অবগত আছেন? মহিমান্বিত রজনী হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। সে রাত্রিতে ফেরেশতাগণ ও রূহ তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে প্রতিটি কাজের জন্য অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। শান্তিপূর্ণ সেই রজনী; তা ফজরের উদয়কাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে’ (ক্বদর ১-৫)।রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে ও সাওয়াবের আশায় ক্বদরের রাত্রিতে জেগে নফল ইবাদত করবে, তার পূর্বকৃত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে’। (বুখারী হা/৩৫; মুসলিম হা/৭৬০)লাইলাতুল ক্বদরের দোয়াবেশী বেশী করা দরকার। হাদীসে দোয়া করার ব্যাপারে বর্ণিত রয়েছে- ‘হে আল্লাহ তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা পছন্দ করো। অতএব আমাকে তুমি ক্ষমা করো’। (আহমাদ, ইবনু মাজাহ, তিরমিযী, মিশকাত হা/২০৯১)

সিয়াম ভঙ্গের কারণ সমূহ :

(ক) সিয়াম অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে সিয়াম ভঙ্গ হয় এবং তার কাযা আদায় করতে হয়।

(খ) যৌন সম্ভোগ করলে সিয়াম ভঙ্গ হয় এবং তার কাফফারা স্বরূপ একটানা দুইমাস সিয়াম পালন করা অথবা ৬০জন মিসকীন খাওয়াতে হয় (নিসা ৯২; মুজাদালাহ ৪)।(গ) সিয়াম অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে ক্বাযা আদায় করতে হয়। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলে বা সহবাস জনিত নাপাকী অবস্থায় সকাল হয়ে গেলে, চোখে সুর্মা লাগালে বা মিসওয়াক করলে সিয়াম ভঙ্গ হয় না। (নায়ল ৫/২৭১-৭৫, ২৮৩. ১/১৬২ পৃঃ)

(ঘ) অতি বৃদ্ধ যারা সিয়াম পালনে অক্ষম, তারা সিয়ামের ফিদিয়া হিসাবে দৈনিক একজন করে মিসকীন খাওয়াবেন। সাহাবী আনাস (রাঃ) গোস্ত-রুটি বানিয়ে একদিন ৩০ (ত্রিশ) জন মিসকীন খাইয়েছিলেন। (তাফসীরে ইবনে কাছীর ১/২২১)ইবনু আববাস (রাঃ) গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিনী মহিলাকে সিয়ামের ফিদিয়া আদায় করতে বলতেন। (নায়ল ৫/৩০৮-১১ পৃঃ)

(ঙ) মৃত ব্যক্তির সিয়ামের কাযা তার উত্তরাধিকারীগণ আদায় করবেন অথবা তার বিনিময়ে ফিদিয়া দিবেন। (নায়ল ৫/৩১৫-১৭ পৃঃ)

আল্লাহ তায়ালা সকল মুসলমানকে তাঁর দেওয়া বিধান সিয়ামকে যথার্থভাবে পালন করে তাঁকে রাযী-খুশি করার পাশাপাশি নিজেদের নৈতিকমান বৃদ্ধি করার তাওফীক্ব দিন। আমাদের মাঝে তাঁর রহমত আরো বাড়িয়ে দিন। আমাদের উপর করোনা মহামারির যে আযাব দিয়েছেন তা থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আমরা যেনো এ বিপদে আমাদের জাহিলিয়াতের আস্তরমাখা ভাবনার দুয়ার ভেঙ্গে শিরক ও বিদআতমুক্ত জীবন-যাপনের প্রেরণা খুজে পাই। আল্লাহ আমাদের সকলের সিয়াম সুন্দরভাবে পালন করার তাওফীক্ব দান করুন-আমীন!

লেখক: পিএইচডি গবেষক, ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় Email: hadayetcv@gmail.com

Share This: