করোনার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য দারুণ সুসংবাদ!

আফ্রিকার কয়েকটি দেশের পর পাকিস্তান এবং সর্বশেষ ভারতে আক্রমণ চালানোর পর বাংলাদেশেও পঙ্গপাল আক্রমণ করতে পারে। সম্প্রতি ভারতীয় বেশ কিছু গণমাধ্যম এমন খবর প্রকাশ করেছে।

তবে বাংলাদেশের কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আপাতত বাংলাদেশে পঙ্গপালের কোন শঙ্কা নেই। এমনকি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, এখানে পতঙ্গটির আক্রমণের ঝুঁকি নেই।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্বাপর সময়ে ভারত ও পাকিস্তানে ফড়িং গোত্রের এই পতঙ্গের আক্রমণ ঘটলেও তখন বাংলাদেশে তা ছড়ায়নি। বিগত ৫০ বছরেও এমনটি ঘটেনি। কারণ দেশের আবহাওয়াই পঙ্গপাল বিরোধী।

কৃষি সচিব নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পঙ্গপাল ঢুকে পড়বে। এটি আমাদের নজরে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, পঙ্গপালগুলো ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে বাংলাদেশে হানা দেবে। এই কথার কোন ভিত্তি নেই। বাংলাদেশে পঙ্গপাল হানা দেওয়ার শঙ্কা দেখছি না।’

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলার কারণ ব্যাখ্যা করে নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি তাদের মূল প্রতিবেদনটিও দেখেছি। সেখানে এমন কথা উল্লেখ আছে, ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে পঙ্গপাল হানা দেবে। ভারত মহাসাগর অতিক্রম করতে হলে তাদের উৎপত্তিস্থল হতে হবে ফিলিপাইন অথবা সিঙ্গাপুর। কিন্তু এই পতঙ্গপালের আসার কথা আফ্রিকা বা সৌদি আরব থেকে। আর আফ্রিকা থেকে আসতে হলে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে আসতে হবে। অর্থাৎ তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।’

নাসিরুজ্জামান আরও বলেন, ‘ভারতে পঙ্গপাল হানা দিলেও সেটা বাংলাদেশে আসবে না। কারণ পঙ্গপাল ব্রিডিং করতে করতে এগিয়ে আসা। তা করতে উচ্চ তাপমাত্রার প্রয়োজন। ব্রিডিং করতে হলে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির উপরে থাকতে হবে। বাংলাদেশের তাপমাত্রা সবসময় এর চেয়ে কম থাকে। আবার ব্রিডিংয়ের ক্ষেত্রে আদ্রতা হতে হবে ৫০ ডিগ্রির নিচে, বাংলাদেশে এটি বেশিরভাগ সময় ৭০ ডিগ্রির ওপরে থাকে। দেশের আবহাওয়া মরুভূমির মতো না হওয়ায় এখানে পঙ্গপাল হানা দেওয়ার কোন শঙ্কা আমরা দেখছি না। আমরা আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, দেশের আবহাওয়াই পঙ্গপাল বিরোধী।’

পঙ্গপাল কেন এত বিপজ্জনক?

পঙ্গপাল যখন ফসলের ক্ষেতে আক্রমণ করে, তখন তা একজন কৃষকের জন্য রীতিমত দুঃস্বপ্নের বিষয় হয়ে ওঠে। একটি পূর্ণ বয়স্ক পঙ্গপাল প্রতিদিন তার ওজনের সমপরিমাণ খাদ্য খেতে পারে। যে অঞ্চলে তারা আক্রমণ করে, সেখানে খাদ্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা অন্য অঞ্চলে যায় না।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে একা থাকলে পতঙ্গ বেশ নিরীহ প্রাণী, কিন্তু দলবদ্ধ অবস্থায় এরা হয়ে ওঠে বিধ্বংসী।

জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন ফাও বলছে, এক বর্গকিলোমিটার আকারের পঙ্গপাল এক সঙ্গে যে খাবার খায় তা দিয়ে ৩৫ হাজার মানুষকে এক বছর খাওয়ানো সম্ভব। একটি বড় পঙ্গপাল দিনে ১২০ মাইল পর্যন্ত জমির ফসল খেয়ে ফেলতে পারে। কেবল খাবারই খায় না তারা, একই সঙ্গে প্রজননের কাজটিও করে।

গত বছরের শেষ দিকে আফ্রিকার সোমালিয়া, ইথিওপিয়া এবং কেনিয়াসহ কয়েকটি দেশে কৃষি ক্ষেতে আক্রমণ চালাচ্ছে পঙ্গপাল, যে কারণে সেসব দেশের কৃষকেরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তবে ঐ অঞ্চলে পঙ্গপালের আক্রমণ নিয়মিত বিরতিতে হয়ে থাকে।

জাতিসংঘের হিসাবে পশ্চিম আফ্রিকায় ২০০৩-০৫ সাল পর্যন্ত সময়ে ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের ফসলের ক্ষতি করে পঙ্গপাল।

Share This: