ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস পালিত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সীমিত আকারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস পালিত হয়েছে।
শনিবার সকালে হত্যাকান্ডে নিহত শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। এসময় স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন সাবেক এমপি মো. রুহুল আমিন, বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। পরে নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক এমপি রুহুল আমিন বলেন, ২০০১ সালের এদিনে বিডিআর ও বিএসএফ’র মধ্যে অনাকাঙ্খিত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে রৌমারী বড়াইবাড়ীর গ্রামবাসীরা আমরা অংশ গ্রহন করি। আমাদের ৩ জন বিডিআর সদস্য শহীদ হন। পাশাপাশি ভারতের ১৬ জন বিএসএফ সদস্য নিহত হয়। তাই আমরা শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য প্রতিবছর এই দিনটিতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন বড়াইবাড়ীর ইতিহাস জানতে পারে সেজন্যে একটি স্মৃতি সৌধ এখানে স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ কোনো কারণ ছাড়াই অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে দ্বিপাক্ষীয় সীমানার ১০৬৭/৩ নং পিলার অতিক্রম করে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ীতে বাংলাদেশ ভুখ-ে বড়াইবাড়ী তৎকালীন বিডিআর ক্যাম্পসহ আশপাশের গ্রাম দখলে নেয়ার পায়তারা করে। কিন্তু গ্রামবাসীর তীব্র প্রতিরোধ আর বিডিআর জোয়ানদের কারণে পিছু হটে তারা। বিএসএফ বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন ৩৩-রাইফেল ব্যাটালিয়নের ৩ বীর সদস্য ল্যান্স নায়েক ওহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান ও ২৬-রাইফেল ব্যাটালিয়নের সিপাহী আব্দুল কাদের।
এ ঘটনায় আহত আরো ৫ বিডিআর সদস্যরা হলেন হাবিলদার আব্দুল গনি, নায়েক নজরুল ইসলাম, ল্যান্স নায়েক আবু বকর সিদ্দিক, সিপাহী হাবিবুর রহমান ও সিপাহী জাহিদ নবী।
সে সময় বড়াইবাড়ী গ্রামের ছবিরন বেওয়া (৮০), মোস্তফা মুন্সিসহ (৪৫) আহত হন আরো অনেক মানুষ। বিএসএফ’র অফিসারসহ নিহত হয় ১৬ জন। বিএসএফ পুড়িয়ে দেয় শতাধিক ঘরবাড়ি। ঘরছাড়া হন সীমান্ত এলাকাসহ আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ। কথিত রয়েছে, সিলেটের পাদুয়ায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে জবর দখল করতে গিয়ে বিডিআর জোয়ানদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে শোচনীয় পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ভারতের বিএসএফ’র এ আক্রমণ বলে ধারনা এলাকাবাসীর।

Share This: