এবার মাদক মামলার মুখোমুখি দীপিকা

সোশ্যাল মিডিয়া এবং নাগরিক সমাজে উঠে আসা বেশকিছু প্রশ্নের মধ্যেই শুক্রবার নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)-র তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে চলেছেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। বলিউডের আরেক অভিনেত্রী রাকুল প্রীতকেও মাদক মামলার বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এনসিবি’র গোয়েন্দারা। খবর: আনন্দবাজার
তবে মাদক মামলার বিষয় নিয়ে এখনো কিছু বলেননি দীপিকা পাড়ুকোন।
প্রশ্ন উঠেছে, নরেন্দ্র মোদি সরকারের কৃষি বিলের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কৃষক বিক্ষোভের ঘোষিত কর্মসূচি থেকে নজর ঘোরাতেই কি বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের ডাকা হয়েছে?
জানুয়ারিতে ভারতের জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্রদের উপর হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দীপিকা। আহত ছাত্রছাত্রীদের দেখতে পৌঁছেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এসব কারণেই কি দীপিকাকে নিশানা করা হচ্ছে কি না, অনেকে সে ব্যাপার নিয়েও কথা তুলেছেন।
শুধু দীপিকাই নন- রাকুল প্রীত সিং, সারা আলি খান, শ্রদ্ধা কাপুরদের পরপর ডাক দেয়ার পুরো বিষয়টিকে বড়সড় মাত্রা দেয়ার পিছনে কোনো প্রচ্ছন্ন রাজনীতি কাজ করছে কি না, সে ব্যাপারেও প্রশ্ন উঠেছে। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তকে ঘিরে বিহার ও মহারাষ্ট্র সরকারের সংঘাত সামনে এসেছিল। নরেন্দ্র মোদি, নীতীশ কুমারদের দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, বিহারের ভোটের কথা মাথায় রেখে মৃত্যু তদন্ত নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে।
সুশান্তের পরিবারের পক্ষে ওঠা অভিযোগগুলি নিয়ে এই মুহূর্তে সিবিআই, ইডির তৎপরতা দেখা না গেলেও প্রতিদিনই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসছে এনসিবি। অভিনেতাকে ঘিরে মূল তদন্ত পথ হারাচ্ছে কিনা, তাও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, মাদক চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত কমলজিৎকে গ্রেপ্তার করেছে এনসিবি। একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের মুখে টেলিভিশন জগতের অন্তত ২০ জনের নাম করেছে ওই মাদক ব্যবসায়ী।
শুক্রবার মুম্বাই হাইকোর্ট জানিয়েছেন, সুশান্তের মৃত্যু তদন্তে গ্রেপ্তার রিয়া ও শৌভিক চক্রবর্তীর জামিনের শুনানি হবে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর)।
এদিকে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর এখনও পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এনসিবির পক্ষ থেকে। যার মধ্যে রিয়া চক্রবর্তী, সৌভিক চক্রবর্তী, স্যামুয়েল মিরান্ডারা রয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৪ জুন সকালে নিজ ফ্ল্যাট থেকে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে দিনই ময়নাতদন্ত করেন মুম্বাইয়ের কুপার হাসপাতালের পাঁচজন চিকিৎসক। তাদের রিপোর্টে লেখা ছিল, ঝুলন্ত অবস্থায় শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু। সেই রিপোর্টে এই মৃত্যুকে আত্মহত্যা আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছিল, শরীরে অন্যকোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।

Share This: