উলিপুরে ধরলা নদীতে নৌকা ডুবি চারজন নিখোঁজ

বৌ ভাত খেতে গিয়ে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাশিম বাজার ঘাট এলাকায় ধরলা নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় কন্যা পক্ষের একজন মহিলা সহ চারজন নিখোঁজ হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে- ঈদের পরদিন অর্থাৎ গতকাল ২৬ মে বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের দেলদারগঞ্জ পুর্ব সাত ভিটা নামার চর গ্রামের আব্দুল হাইয়ের পুত্র আলমগীরের সাথে পার্শ্ববর্তী দূর্গাপুর ইউনিয়নের যমুনা রায় পাড়া গ্রামের নুরুর কন্যা আনিছা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পরদিন বর পক্ষের বাড়ীতে বৌ ভাতের অনুষ্ঠানে কনে পক্ষের অর্ধশত আত্মীয় স্বজন যায়। বৌ ভাত খেয়ে কনে পক্ষের লোকজন একযোগে একটি নৌকায় ধরলা নদী পার হবার সময় নদীর মাঝে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এসময় উঠতি বয়সের কয়েকজন ছেলে মাথার উপর পলিথিন দেয়ার উদ্যোগ নিলে আরো বেশ কয়েকজন পলিথিনের তলে আসার জন্য নৌকার সামন অংশে চলে আসলে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে প্রথমে নৌকার সামন অংশটি ডুবে যায়। এমতাবস্থায় ডুবন্ত নৌকা থেকে বাকি সবাই সাঁতরিয়ে নদীর তীরে আসতে পারলেও চারজন নিখোঁজ হয়।

নিখোঁজরা হলেন কন্যার বাবা নুরু(৫৫), জ্যেঠা কমরেজ জামান (৬৩), অপর জ্যেঠা নুর ইসলাম (৬২) এবং জ্যেঠাই মা আমেনা বেগম (৫৫)।

এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উলিপুর থানার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীর দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য আগামীকাল ২৯ মে রংপুর থেকে ডুবরী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে।

এব্যাপারে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবু তালেব সরকারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন- আমার নিজ বাড়ির সন্নিকটে এই নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। আমি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি অবগত করেছি এবং নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য স্থানীয়ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামীকাল সকালে ইউএনও স্যার ঘটনাস্থলে আসবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

একই প্রসঙ্গে কথা হয় দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরকারের সাথে। তিনি বলেন যে চারজন নিখোঁজ হয়েছেন তারা সকলেই আমার প্রতিবেশী। ঘটনার এতো সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের সন্ধান না পাওয়া দুঃখজনক। তিনি আরো বলেন কুড়িগ্রাম নদী মাতৃক জেলা। এ জেলায় ডুবরী দল না থাকা আরো বেশী দুঃখজনক ঘটনা বলে আমি মনে করি।

Share This:

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.