আড়াই শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ গতিতে এগিয়ে চলছে

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ কুড়িগ্রামের উলিপুর ও চিলমারী উপজেলা দু’টিকে বাঁচানোর লক্ষ্যে আড়াই শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের (২ ফেজ) কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের কাজের গতি এবং গুণগত মান ভাল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি সমাপ্ত করা যাবে।
সুত্র জানায়- কুড়িগ্রামের ভূ-খন্ডে ৩৫ কি. মি. দীর্ঘ ব্রহ্মপুত্র নদটি উলিপুর এবং চিলমারী উপজেলার জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছিল। ব্রহ্মপুত্র নদটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথম পর্যায়ে ৩কি. মিটার এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে সাড়ে ৬ কি. মিটার এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এরমধ্যে প্রথম পর্যায়ের তিন কি. মিটার এলাকার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয়। এরপর ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে সাড়ে ৬ কি. মিটারের কাজ শুরু করা হয়। বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে। ২০১৬ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের দ্বিতীয় পর্যায়ের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ৯টি প্যাকেজে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ইতোমধ্যে এই ৯টি প্যাকেজের কাজ গড়ে ৫০ ভাগ সম্পন্ন করা হয়েছে। এই কাজগুলি বাস্তবায়ন করছে ৯টি স্বনামধন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ৮ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে এসএসসিএল-এমআরসি জয়েনভ্যান্সার, ৮ কোটি ১৪ লাখ  ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ে মেসার্স এমএ ইন্টারপ্রাইজ, ৮ কোটি ৬০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে কে,এস,এস এমদাদুল হক জয়েনভ্যান্সার, ৮ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে  মেসার্স খায়রুল কবীর রানা, ৭ কোটি ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে র‌্যাবআরসি এন্ড বিসি জয়েনভ্যান্সার, ৭ কোটি ৮২ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে টিআই-এসবি জয়েনভ্যান্সার, ৬ কোটি ৪৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এমএস রূপান্তর, ৬ কোটি ২০ লাখ ২৭ হাজার টাকা ব্যয়ে এলএ-টিটিএসআই ব্লক তৈরী, ডাম্পিং এবং জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ করছে। এছাড়াও ১৩ কোটি ৪৯ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয়ে এসএস খন্দকার শাহীন আহমেদ কনাষ্ট্রকশনের মাধ্যমে চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কালিরকুড়া নামকস্থানে ১নং ক্রসবার নির্মানের কাজ অব্যাহত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র ডানতীর রক্ষা প্রকল্প (২য় ফেজ)’র আওতায় ৫ কি. মি. নদী ড্রেজিংয়ের কাজ করার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে সুত্রটি জানিয়েছে। উল্লেখিত ৯টি প্যাকেজের কাজ শুরু হয়েছে গত ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর। প্যাকেজগুলির কাজ সমাপ্ত হবে চলতি ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারীর মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র আরো জানায়- কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী ও উলিপুর উপজেলাধীন বৈরাগীহাট এবং চিলমারী বন্দর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের মুল ব্যয় ছিল ১শ’ ৯১ কোটি টাকা। পরবর্তীতে প্রকল্পের কাজ বর্ধিত করায় এ ব্যয় দাড়িয়েছে ২শ’ ৫৬ কোটি টাকায়। এরপাশাপাশি কাজের সময়ও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্ধিত কাজের মধ্যে রয়েছে নতুন করে ১৪শ’ মিটার নদীর তীররক্ষা, একটি ক্রসবার নির্মান ও ৫ কি. মি. নদী ড্রেজিংয়ের কাজ।
এদিকে- একটি প্রভাবশালী মহল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছে মোটা অংকের চাঁদার টাকা না পেয়ে নানাভাবে প্রকল্পের কাজে বাঁধার সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বাঁধা উপেক্ষা করে প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উলিপুর অঞ্চলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আবু তাহের মন্ডল জানিয়েছেন- আমরা নিবিড়ভাবে প্রকল্পের প্রতিটি কাজ পর্যবেক্ষণ করছি। কোথাও কোন ধরণের সমস্যা নেই।
একই প্রসঙ্গে কথা বলা হয় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন- ইতোমধ্যে আমার উদ্ধৃতি দিয়ে কিছু পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট বেড়িয়েছে। অথচ এ নিয়ে কারো সাথে আমার কথাই হয়নি। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাপ্ত হবার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরো  বলেন- প্রকল্পের কাজ মোর টেকনিক্যাল। না জেনে-শুনে রিপোর্ট করলে ভূল হবার সম্ভাবনাই বেশী। কাজের গুনগতমান ভাল রাখার জন্য ট্রাসফোর্স রয়েছে। আরো রয়েছে বুয়েট টেস্ট রিপোর্ট। এতোকিছুর পরও তৈরীকৃত ব্লক যদি আমাদের কাছে ত্রুটি মনে হয় তাহলে সেই ব্লকের বিল দেয়া হয় না। ওয়েল গ্রেটেড পাথর ও বালু দ্বারা ব্লক তৈরী হওয়ায় ব্লকের গুণগতমান বেশ ভাল হচ্ছে।

Share This: