অবশেষে করোনার কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কার!

মাসখানেক আগেও করোনা মহামারি ছিল শুধু চীনকেন্দ্রিক। দেখতে দেখতেই বদলে গেছে পরিস্থিতি। নভেল করোনাভাইরাসের হানায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলো। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সবার মধ্যেই। মহামারি ঠেকাতে যেন মহাচ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন সারাবিশ্বের নীতিনির্ধারকরা। অবশেষে করোনা নিয়ে বিশাল সুখবর দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পিটসবুর্গের একদল বিজ্ঞানী।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের একটি কার্যকরী ভ্যাকসিন তৈরির দাবি করেছেন তারা। শুধু তাই নয়, ইঁদুরের শরীরে এই ভ্যাকসিনটির সফল পরীক্ষা চালানোরও দাবি করে তারা বলেছেন, ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের পর ইঁদুরের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

ভ্যাকসিন আবিষ্কারের এই দাবি নিয়ে ই-বায়োমেডিসিন জার্নালে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব পিটসবুর্গের স্কুল অব মেডিসিনের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রিয়া গ্যাম্বোত্তো বলেন, আমরা খুব শিগগিরই এই ভ্যাকসিনটি রোগীর শরীরে প্রয়োগ করতে পারবো।

ভ্যাকসিন তৈরির এই গবেষণার কো-অথর ইউনিভার্সিটি অব পিটসবুর্গের চর্মরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক লুইস ফ্যালো বলেন, আমরা এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পৌঁছেছি। আমরা এটি প্রয়োগের জন্য এক মাস অথবা দুই মাস ভাবতে চাই। আমরা মাত্রই প্রক্রিয়াটি শুরু করেছি।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার পর্যন্ত বিশ্বে মারা গেছেন ৫৩ হাজার ১৯৫ জন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, নভেল করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত সারাবিশ্বে আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ১০ লাখ ১৫ হাজার ৫০৫ জন। এদের মধ্যে বর্তমানে ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৯১৮ জন চিকিৎসাধীন এবং ৩৭ হাজার ৬৯৬ জন (৫ শতাংশ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ২ লাখ ১২ হাজার ৩৯২ জন (৮০ শতাংশ) সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং ৫৩ হাজার ১৯৫ জন (২০ শতাংশ) রোগী মারা গেছেন।

গত বছরের ডিসেম্বরের চীন থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

Share This: